বাংলাদেশকে করোনাভাইরাসের টিকা দেবে না ভারত : জানেনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কালের কলম
2 Min Read
চিত্র: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আদার পুনাওয়ালা, ছবি: স্ক্রল ডট ইন্ডিয়া।

ডেস্ক নিউজ: 

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেও আপাতত বাংলাদেশকে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ করা হচ্ছে না। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা গতকাল রোববার মানবদেহে প্রয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় ভারত। এর পরপরই দেশটির সরকার ভ্যাকসিনটি রপ্তানিতে কয়েক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আদার পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, ভারতের ভ্যাকসিন অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার শর্ত সাপেক্ষে অক্সফোর্ডের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। শর্তে বলা হয়েছে, ভারতের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বা টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আপাতত টিকা রপ্তানি করতে পারবে না সিরাম ইন্সটিটিউট।

সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আরো জানিয়েছেন, ‘আপাতত অক্সফোর্ডের টিকা বাজারজাতকরণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে (টিকা) আমরা শুধু ভারত সরকারকে দিতে পারব।’

ভারতের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী মার্চ বা এপ্রিলের আগে অক্সফোর্ডের টিকা রপ্তানি করা সম্ভব হবে না বলে জানান সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান আদার পুনাওয়ালা।

এর আগে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ সরকারের মন্ত্রীরা বলে আসছিলেন, জানুয়ারির শেষ নাগাদ কিংবা ফেব্রুয়ারিতে টিকা পাবে বাংলাদেশ।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ করোনার টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশ সরকার, দেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় মাসে এই টিকা পাবে বাংলাদেশ। সরকার বিনামূল্যে এই টিকা দেবে। পাশাপাশি বেক্সিমকো বেসরকারিভাবেও ৩০ লাখ টিকা আনবে এবং প্রতি ডোজের দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ টাকা।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ১০০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের কথা। কিন্তু ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে খুব সম্ভবত এই টিকা পেতে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিন ভারত রপ্তানি না করার বিষয়ে দেশের একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে উদ্ধৃত করে বলেছে, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: পার্সটুডে

Share This Article
Leave a comment